বেশি সংক্রমিত এলাকার কর্মীদের সচিবালয়ে যেতে হবে না

বাংলাদেশ সচিবালয়। ফাইল ছবিকোনো কোনো অফিস কক্ষে আগে বসতেন চারজন। এখন বসছেন একজন বা দুজন। কোনো কোনো কক্ষ একেবারেই ফাঁকা। আবার এক ভবনের বারান্দার এক পাশের কলাপসিবল গেট একেবারে বন্ধ, কোনো কোনো দপ্তরে আধা বন্ধ করে নোটিশ ঝুলানো—লেখা ‘প্রবেশাধিকার সীমিত’। দর্শনার্থীও স্বাভাবিক সময়ের মতো নেই ।

করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর অফিস খোলার চতুর্থ দিনের মাথায় বুধবার সচিবালয়ের চিত্র এমনই দেখা গেছে। গত রোববার অফিস চালুর পর প্রথম দুদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি হলেও পরে সংক্রমণ রোধে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে অফিস করার সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন সচিবালয়ে কর্মকর্তা -কর্মচারীদের উপস্থিতিও একেবারে কম। আবার স্বাস্থ্যবিধিও আগের চেয়ে জোরদারভাবে মানা হচ্ছে। যেসব মন্ত্রণালয়ের বাথরুমে সাবান ছিল না, সেখানে বুধবার সাবান চোখে পড়ল।

এর মধ্যে ঢাকার বেশি সংক্রমিত এলাকায় বাস করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপাতত সচিবালয়ে না আসার ব্যবস্থা করতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, সংক্রমণ বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকাকে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা ঘোষণার পর বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হবে। সংক্রমণ মোকাবিলায় ন্যূনতম কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়ে অফিস পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করতে হবে, আবার কাজও চালিয়ে নিতে হবে। সংক্রমণরেোধে সরকারি অফিসগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি অফিসগুলোকেও একই প্রক্রিয়ায় কাজ করার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দোতলার একটি কক্ষে গিয়ে কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। পাশের কক্ষে গিয়ে দেখা গেল একজন কাজ করছেন। প্রথম আলোকে তিনি বললেন, এই কক্ষে আগে চারজন বসতেন। এখন (বুধবার) তিনি একাই। কর্মকর্তা-কমচারীদের পালাক্রমে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে ঢোকার কলাপসিপল গেট অর্ধেক বন্ধ রেখে সেখানে লেখা ‘প্রবেশাধিকার সীমিত’। আগের দিনও একই চিত্র ছিল।

একই ভবনে অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়েও কম কর্মকর্তা-কর্মচারী দেখা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চার তলায় দুটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় দুজন করে কাজ করছেন। এক নারী কর্মকর্তা বললেন, তাদেঁর কক্ষে আগে চারজন একসঙ্গে কাজ করতেন। এখন দুজন করে কাজ করছেন।

প্রথম দুদিন এই মন্ত্রণালয়ের বাথরুমে সাবান দেখা যায়নি। আজ তা দেখা গেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন সমবায় বিভাগে জীবাণুনাশক টানেল থাকলেও এখন কেবল পাপোশে জীবাণুনাশক দেওয়া থাকে। করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরাসহ ১৩ দফা নির্দেশনার মধ্যে থেকে পরে জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে কম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অফিস করলেও যারা অফিসে আসছেন তাঁদের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই মাস্ক পড়তে দেখা গেছে। কেউ কেউ হাতে গ্লাভস ও মাথায় জীবাণুমুমক্ত রাখার প্লাস্টিকের টুপি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।



[ad_2]

Source link

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

amaderdinkal.com

ডেস্ক রিপোর্ট

%d bloggers like this: