নদীর মতো অভাবেরও সীমানা নেই

ডোবায় মাছ ধরছে গ্রামবাসী। গত রোববার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুরে।  ছবি: প্রথম আলোআজকাল খোলা আকাশের নিচে নরসুন্দরদের খুব একটা কাজ করতে দেখা যায় না। কিন্তু কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় যাওয়ার পথে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধরলা সেতুর পাশে এমন দৃশ্য চোখে পড়ল। ভূপেন শীল নামের এই নরসুন্দরের বয়স ৬৫। তাঁর ছেলের সেলুন আছে কুলাঘাট বাজারে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আয় কমে গেছে। তাই জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ঘুরতে বেড়িয়েছেন।

ভারত-বাংলাদেশের আন্তসীমান্ত নদী ধরলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রবেশ করেছে কুলাঘাট হয়ে। ভূবন শীলের বাড়ি সেই সীমানা লাগোয়া গ্রামে। পড়েছে লালমনিরহাট জেলায়। তিনি কাজ করেন কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের দুই অংশেই। তাঁর মতে, ‘নদীর মতো অভাবেরও কোনো সীমানা নেই।’

কুড়িগ্রাম শহর থেকে ধরলা নদীর উত্তরে ফুলবাড়ী উপজেলায় যাওয়ার দুটি সড়কপথ রয়েছে। একটি কুড়িগ্রাম শহর থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে ধরলা সেতু পার হয়ে পাটেশ্বরীর কুমোরপুর সড়ক দিয়ে। অন্যটি কুড়িগ্রাম শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমনিরহাটের বড়বাড়ী ইউনিয়ন পার হয়ে কুলাঘাট দিয়ে। গত বছর শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধরলা সেতু উদ্বোধনের পর এই সড়কপথ চালু হয়েছে।

গত শনিবার সকালে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ধরলা সেতু হয়ে ফুলবাড়ী সড়ক ধরে যেতে যেতে রিকশাচালক, কৃষক, দিনমজুর, খামারি, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অন্তত অর্ধশত ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, করোনাকালে অন্যান্য এলাকার মতো ফুলবাড়ীর অর্থনীতিও সংকটে পড়েছে। তবে তাঁদের জীবন থেমে নেই।

মোট আক্রান্ত ১৪ 
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ সিরাজুল হক জানান, উপজেলায় সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। সুস্থ হয়েছেন সাতজন। এ ছাড়া দুজন হাসপাতাল আসোলেশনে আছেন। হোম আইসোলেশনে আছেন ছয়জন। ফুলবাড়ীতে গত ১৪ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তিনি ঢাকাফেরত পোশাককর্মী।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে ফুলবাড়ীতে এখন পর্যন্ত চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও একজন স্বাস্থ্য সহকারী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গত শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের একজন পরিদর্শক আক্রান্ত হয়েছেন।

গত রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। তবে কিছুক্ষণ পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদ থেকে ১৫-২০ জন মুসল্লিকে নামাজ পড়ে বের হতে দেখা যায়। তাঁদের কারও মুখে মাস্ক নেই। একই চিত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও। সেখানে দোকানমালিক ও কর্মচারীদের কারও মুখে মাস্ক নেই। কয়েকটি ওষুধ দোকানের বিক্রয়কর্মীদের মাস্ক পরতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) উম্মে হাফসা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার। করোনার প্রথম দিকে ভয়ে সাধারণ রোগীরা আসত না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে চিকিৎসক, নার্সসহ কয়েকজন স্বাস্থকর্মী সুস্থ হয়েছেন। যাঁরা সুস্থ আছেন, তাঁরা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন মিয়া জানান, চিকিৎসক-নার্স আক্রান্ত হওয়ায় এলাকার মানুষ ভয়ের মধ্যে আছেন। কেউ কেউ অসুস্থ হলে ঘরে বসে বা পল্লিচিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

অবশ্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বড়ভিটা ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রাবেয়া বাসরী জানান, তাঁদের এখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন রোগী আসছে। তারা জ্বর, ডায়রিয়ার ওষুধ নিচ্ছে। কাশিপুর ইউনিয়নে মধ্য অনন্তপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ২০–২৫ জন রোগী সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে আসছে।

৬৫ বছরের বৃদ্ধ ভূপেন শীল। পেশায় নরসুন্দর। আয় না থাকায় এখন গ্রামে ঘুরে কাজ করছেন তিনি। গতকাল দ্বিতীয় ধরলা সেতুর পশ্চিমে।  প্রথম আলোকরোনা নিয়ে সচেতনতা কম
ফুলবাড়ীর বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানপাট খোলা। সড়কে সড়কে রিকশা, অটোরিকশা চলছে। পাড়ায় পাড়ায় চা, পান, বিড়ির দোকানগুলোতে লোকজন সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব না মেনে আড্ডা দিচ্ছে। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই।

রোববার সকালে কুড়িগ্রাম শহর থেকে হলোখানার বাংটুর ঘাট দিয়ে নৌকায় করে ধরলা নদী পার হয়ে ফুলবাড়ী যাওয়ার পথে বড়ভিটা ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজারে চা-পানের দোকানে বেশ আড্ডা দেখা গেল। অনেকেই টেলিভিশনে করোনার সংবাদ দেখছেন। বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। 

তবে বড়ভিটা বাজার ইজারাদার কমিটির পক্ষ থেকে করোনা–সচেতনতার প্রচারে মাইকিং শোনা যায়। বড়ভিটা বাজারের লোকদের একটু সচেতন মনে হলো।

ফুলবাড়ী উপজেলা বাজারে শনি ও রোববার দুদিনই সরকারি নির্দেশনা মেনে দোকানপাট বন্ধ করতে দেখা যায়। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নবিউল হাসান জানান, লকডাউন তুলে নেওয়ায় অনেকের মধ্যে করোনা–আতঙ্ক কমে গেছে। সচেতনতা বাড়াতে আবার মাইকিং করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, পাঁচ–ছয়টি হাটবাজারে জনসমাগম হচ্ছে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও হাট ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন থেকে তদারক করা হচ্ছে।

শিক্ষায় সংকট
ফুলবাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১৫০টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ৪৩৪। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ৪০টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। করোনাভাইরাসের কারণে এসব বিদ্যালয় ছুটি থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকছে না। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে গ্রামীণ খেলাধুলায় মেতে থাকছে। কেউ দল বেঁধে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে, কেউ মাছ ধরছে। মোড়ে মোড়ে দোকানগুলোতে সিনেমা দেখতে শিশুশিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই।

কাশিপুর ইউনিয়ন থেকে চার কিলোমিটার উত্তরে ভারত সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিম অনন্তপুর বিজিপি ক্যাম্প–সংলগ্ন নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা। সেখানে ২০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসায় পাওয়া গেল। মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল কাদের বলেন, গ্রাম কালেকশনের জন্য তাদের বাড়ি থেকে আনা হয়েছে।

ফুলবাড়ী থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, এখানে মোট শিক্ষার্থী ২৮৫। সরকার দশম শ্রেণি পর্যন্ত সংসদ টিভির মাধ্যমে পাঠদান চালু করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর বাড়িতে টেলিভিশন নেই। বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন নয়। অভিভাবকের মোবাইলে ফোন করে শিক্ষার্থীদের গৃহ পাঠদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদুল হক জানান, সরকারের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা এসেছে। করোনাকালে শিক্ষার্থীরা যাতে হতাশ না হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীদের দেখভাল করতে শিক্ষকদের বলা হয়েছে।

দুশ্চিন্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রখানা কুমারপাড়া। এখানে শতাধিক মৃৎশিল্পী পরিবারের বসবাস। মাটির তৈজসপত্র বেচে তাদের সংসার চলত। কিন্তু দেড় মাস ধরে আয় বন্ধ। মৃৎশিল্পী যতীন চন্দ্র বলেন, ‘হাটবাজারে মানুষ এখন চাল, ডাল, ওষুধ ছাড়া অন্য কিছু কেনে না। সামনে বর্ষাকাল। কী দিয়া চলমো।’

ফুলবাড়ীর অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। বেশির ভাগ মানুষ দিনমজুর। এলাকায় কাজ না থাকলে ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে গিয়ে বিভিন্ন কাজ করেন। করোনাভাইরাস শুরুর সময় বেশির ভাগই ফিরে এসেছেন। তাঁরা আবার যাবেন কি না, দ্বিধায় আছেন।

ফুলবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনমজুর, শ্রমজীবীরা কিছু হলেও করছেন। যদিও মজুরি কমেছে। দিনে পাচ্ছেন দুই থেকে আড়াই শ টাকা। সদর ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি মিয়া গ্রামে পাওয়া গেল এমন সাত শ্রমিককে। তাঁরা সেখানে অন্যের সাত বিঘা জমিতে বাগান করছেন।

উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে ধান কাটা শেষের পর এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে পাট‌খেত। কোথাও কোথাও অল্প কিছু কচুখেতও দেখা গেল। অনেকে নিচু জমিতে নেট দিয়ে মাছ চাষ করছেন। বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়মিয়া ইউনিয়নে দেখা হয় পাঁচ মাঝির সঙ্গে। তাঁরা জানান, এ উপজেলায় অন্তত দেড় শ মৎস্যচাষি আছেন। বেশির ভাগই রেণু পোনা উৎপাদন করছেন। সেখান থেকে তাঁরা পোনা সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন।

ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, সড়কের দুপাশেই বাঁশ কেটে পালা করে রাখা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে পানের বরজের কাঠি তুলছেন কিছু শ্রমিক। বাঁশ ব্যবসায়ী আবদুস ছালাম জানান, ফুলবাড়ী থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন–চার ট্রাক বাঁশ ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। লকডাউন থাকলেও ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক থাকায় তাঁর ব্যবসা ভালোই চলছে।

বাড়িতে রান্নার জোগাড় করতে কচুশাক তুলছেন কাশিপুরের বাসিন্দা জামিরন।  ছবি: প্রথম আলোএনজিওর কিস্তি নিয়ে দোটানা
রোববার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব পার হয়ে বড়ভিটা ইউনিয়নে বাঁধের সড়ক দিয়ে যেতেই দেখা মেলে ব্র্যাকের খড়িবাড়ী শাখার মাঠকর্মী আনিসুল হকের সঙ্গে। তিনি চর বড়লই কিস্তি আদায়কেন্দ্রে অপেক্ষা করছিলেন। বললেন, ৩০ জুন পর্যন্ত ব্র্যাকের কিস্তি আদায় বন্ধ, সদস্যদের এ তথ্য জানাতে এসেছেন।

তবে উপজেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এনজিওর কিস্তি নিয়ে দোটানায় আছেন। উত্তর বড়ভিটা খেজুরের তল মহিলা দলের সদস্য তাহমিনা আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী মুদিদোকান করেন। আরডিআরএস থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। কিস্তি প্রায় শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু এখন ঋণ শোধ করতে পারছেন না, নতুন ঋণও নিতে পারছেন না। 

আদায়কারী লিপি আক্তার বলেন, মানুষের আসলে টাকার দরকার। অনেকেই কিস্তির টাকা শোধ করে নতুন ঋণের আবেদন করছেন। তবে বেশির ভাগের অবস্থা ভালো নয়। এখন চাপও দেওয়া যাচ্ছে না। 

উত্তর বড়ভিটা থেকে ফুলবাড়ী ইউনিয়নে ঢুকতে দেখা যায়, একটি এনজিওর কিস্তির বই হাতে সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক বয়স্ক নারী। তিনি হাওয়া বেগম। বললেন, তাঁর নাতি আশা এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। তিনি সাপ্তাহিক কিস্তির ৮৫০ টাকা দিতে গেছেন। 

ফুলবাড়ী ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের আনজু বেগম স্থানীয় এনজিও রাসার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়েছেন। রোববার দুপুরে তাঁর বাড়ির সামনে কিস্তি আদায়কারীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিস্তি প্রতি সপ্তাহে ৪০ টাকা। কিন্তু সেই টাকাও আনজু বেগম দিতে পারেননি। আদায়কারীকে জানালেন, তাঁর স্বামী রংপুরে তামাক কোম্পানিতে কাজ করতে গেছেন। টাকা পাঠালে কিস্তি দেবেন।

ব্র্যাকের উপজেলা এরিয়া ম্যানেজার শামীম মিয়া জানান, ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণ আদায় বন্ধ আছে। কেউ নিজের ইচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে অফিসে এসে দিতে পারবেন। কোনো সদস্যের নতুন ঋণ দরকার হলেও নিতে পারবেন অথবা সঞ্চয় তুলতে পারবেন।

ত্রাণ বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ চন্দ্র গুপ্ত জানান, করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের জন্য ২১৮ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নগদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং শিশুখাদ্যের জন্য ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাথাপিছু আড়াই হাজার টাকার জন্য ৬ হাজার ৯৯৬ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

তবে ফুলবাড়ীর বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ত্রাণ না পাওয়ার বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের বন্যায় বড়ভিটা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তখন বাড়িভিটা হারিয়ে চর বড়লই রক্ষা বাঁধে আশ্রয় নেয় জমিলা বেগমের পরিবার। তিনি জানান, তাঁর মতো এখানে ২০–২৫টি নদীভাঙা পবিবার আছে। করোনার কারণে এখন কাজ নেই। কিন্তু কেউ কোনো সাহায্য দেয়নি। 

ইউপি চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া জানান, তাঁর ইউনিয়নে মেকলি, চর বড়ভিটা ও পুব ধনীরাম ৭০ থেকে ৮০টি নদীভাঙা পরিবার আছে। কিছু পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় খুব কম।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মাথাপিছু আড়াই হাজার টাকা বরাদ্দের জন্য নাম, মোবাইল নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আছে। তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষকদের। তাঁদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ত্রাণ বণ্টনব্যবস্থা চেয়ারম্যান–মেম্বারদের নিয়ন্ত্রণে। একই ব্যক্তি কয়েকবার পায়। অন্যরা পায় না। অনন্তপুর গ্রামের বালাবাড়ি বাজারের সোলেমান দুবার ত্রাণ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তাঁর বাড়ির পাশে অন্তত ১৫ জনকে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা ত্রাণ পাননি বলে জানান।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সামিউল হক বলেন, ত্রাণ বণ্টন সঠিকভাবে হয়নি। দরিদ্র ও হতদরিদ্ররাই বাদ পড়েছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

amaderdinkal.com

ডেস্ক রিপোর্ট

%d bloggers like this: