করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে উইয়ের উপহার

উই–এর উপহার পেয়েছে এই পরিবার। ছবি: ফেসবুকগত ১০ দিন ধরে ভ্যানচালক রফিকের আয় নেই, ঘরের খাবারও শেষ, তিন বাচ্চা ও স্ত্রীকে নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক এমন সময় তাঁর দরজায় হাজির হলেন উইয়ের ভলান্টিয়ার বাশার। হাতে ‘উই–এর উপহার’ লেখা একটি বাজারের ব্যাগ। যাতে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, লবণ তেল ও সাবান। রফিককে ব্যাগটি বুঝিয়ে দিয়ে পরবর্তী ঠিকানার উদ্দেশ্য রওনা হলেন বাশার। রফিকের মতো আরও অসহায় মানুষের নামের লিস্ট তার হাতে। 

করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ার পর লকডাউনের কারণে স্বাভাবিক জীবন স্থবির হয়ে পড়ে, আয় বন্ধ হয়ে যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের। এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে স্বেছাসেবী সংগঠন WE । দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসহায় মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করে তারা।
WE–এর মূল উদ্যোক্তা হলেন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখে অধ্যয়নরত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর আলম। পরবর্তী সময়ে দেশে ও দেশের বাইরের নানা প্রান্তের আরও বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যুক্ত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্টোনি ব্রুক্স বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ঢাবির আইবিএ।
উই-এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল করোনাভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগে যত বেশি সম্ভব অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। এ জন্য তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয় গো ফান্ডমি, ফেসবুক ফান্ড রেইসার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও স্থানীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।
এ পর্যন্ত উই বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে, যায় মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ৩২টি জেলার ২ হাজার ৫০০ পরিবারকে সহায়তা করেছে। কক্সবাজার থেকে কুড়িগ্রাম এমনকি বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা নিয়ে এগিয়ে গেছেন উই–এর সদস্যরা।
শুরুর দিকে ঢাকাকেন্দ্রিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য থাকলেও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অসহায় মানুষের আকুতি থেকে ঢাকা বাইরে এর কার্যক্রম বিস্তার করা হয়, সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে উই-এর উপহার। ছবি: ফেসবুকউল্লেখ্য, উই–এর মাধ্যমে একটি পরিবারের ৮-১০ দিনের সমপরিমাণ চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবণ ও সাবান দিয়ে সহায়তা করা হয়।
প্রায় দুই মাসব্যাপী চলা এই সহায়তা কার্যক্রমে উই দেশ ও বিদেশের নানা প্রান্তের মানুষের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করেছে। জার্মানির মিউনিখে যে চিন্তার যাত্রা শুরু, তা আজ সফলভাবে বাংলাদেশের ৩২টি জেলায় দুই সহস্রাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। যার পুরো কৃতিত্ব দেশে ছড়িয়ে থাকা উই–এর স্বেচ্ছাসেবকদের।
WE ইতিমধ্যে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঈদের দিন প্রায় ৫০০ পরিবারের জন্য খাবারের আয়োজন করেছে। যদিও উই-এর সৃষ্টি হয়েছে করোনায় বিপর্যস্ত মানুষকে সহায়তার লক্ষ্য নিয়ে কিন্তু সবার উৎসাহে এই কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে চায় তারা। সাতক্ষীরা অঞ্চলে ২০০ পরিবারকে সাহায্য করার জন্য কাজ করে গেছেন সদস্যরা।
WE ভবিষ্যতে অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যার জন্য শিগগিরই একটি পোর্টাল চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অসহায় শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
WE বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চায়, দেশ ও দেশের বাইরের সব ডোনার ও স্বেচ্ছাসেবকদের। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উই তার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছে।

WE সম্পর্কে আরও জানতে:
Facebook group: https://www.facebook.com/groups/667624004002070/
Facebook page: https://www.facebook.com/WE-112602597045868/?mতার,dal=admin_todo_tour। বিজ্ঞপ্তি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

amaderdinkal.com

ডেস্ক রিপোর্ট

%d bloggers like this: